রজত— উপস্থিত প্রিয় সুধী শ্রোতাবৃন্দ, আমার আজকের এই ছোটো আয়োজনে আপনাদের সবাইকে আমার পক্ষ
থেকে হৃদয়ভরা সাদর আমন্ত্রণ। আমি রজত। উচ্চতা ১৭৩ সেন্টিমিটার, গায়ের রঙ ঈষৎ কালো,
রক্তের গ্রুপ ‘ও’ প্রজেটিভ, পাল্স 84 mnt, বিশেষচিহ্ন ডানকানের উপরের দিকে
লম্বালম্বিভাবে ছোটো একটা কাটা দাগ আছে। নেশা অবশ্য
একটা আছে। আর সেটা হল কবিতা। আজকে আপনারা শুনবেন আমার কথা, আমার জীবনের কথা, আমার
প্রেমের কথা। জানি সেসব শুনতে হয়ত কারো কারো ভালো লাগবে ; আবার হয়ত-বা কারো মোটেই
ভালো লাগবেনা। কিন্তু সেসবে আমার বিশেষ কিছুই যায় আসে না। কেননা
সমস্ত ধরনের উপেক্ষা অপমান অবহেলাকে সহ্য করেই আমি গতকাল,
পরশু ও তরশু রূপাকে ভালোবেসেছিলাম। আজও বাসি। আর আগামিকাল, পরশু এবং তরশুও এই
রূপাকেই একইরকমভাবে রাশহীন-উদ্দাম
ভালোবেসে যাবো। আর তার বিনিময়ে বাকি সারাটা জীবন যদি শুধু শূন্য বুকেতে সোনার বরণ
গুচ্ছ গুচ্ছ দুঃখ বয়ে নিয়ে বেড়াতে হয় তো বেড়াবো।
জানেন, রূপাকে দেখার আগে পর্যন্ত আমি ভাবতাম সারা পৃথিবীতে অহরহ কতশত প্রেম ঘটে চলেছে ;
তবে এতদিনেও কেন কেউ আমার জীবনে আসছেনা ? আর মনে মনে কেবলই বলতাম, হে ঈশ্বর এবার
অন্তত কাউকে পাঠান ; যার পঞ্চমুখী বর্ণময় আবেগি-আগমনে এই পোড়খাওয়া খাঁ-খাঁ হৃদয়কে
আমিও উল্লেখ করতে পারি কানাকানি প্রেমের ব্যস্ত বেসামাল মহকুমার
হিসাবে। যার সর্বোব্যাপী ও সর্বগ্রাসী জাঁকজমকপূর্ণ আগমনে ভিতরের সবকটা আজন্মের
বন্ধ দরজা শেষমেষ আবার খুলে যাবে ক্যাঁচ ক্যাঁচ শব্দ তুলে। সীমাহীন সুখের
বাক্স-ভরতি সুশ্রী-শুভকাঙ্ক্ষী বাতি হাতে না হোক ; অন্তত চরম সর্বনাশের বারোটা
বাজা চলমান লাভা নিয়েই একজনকে পাঠান। তবুও পাঠান। আমার
যে আর একা একা ভালো লাগে না। বলাবাহুল্য, অবশেষে তাঁর সেই হাইকোর্টে আমার সেই উত্তাল জোরালো-ঐতিহাসিক
আর্জি একদিন ঠিকই মঞ্জুর হল। তবে সেটা
প্রথম প্রার্থনার হাহাকারভরা উচ্চারণ শুনে না ; বরং
দ্বিতীয় প্রার্থনার হুবহু বেপরোয়া ভয়ংকর অস্থিরতা দেখেই—তিনি রূপা নামের একটি মেয়েকে আমার কাছে পাঠালেন।
রূপা, এমন একটি বিখ্যাত-মায়াবি-মধুর
নাম যা শোনামাত্রই আমাকে মাথা থেকে পা পর্যন্ত ডিস্টাব
হতে হয়। রূপা হল সেই মেয়েটা যার নামে আমার রক্তের ভিতর দ্রুত
পুরুষ হয়ে ওঠার মতো সেইসব সুরভিত সুনামি আসে ; আর আমার
বাহির-ভিতরজুড়ে সৃষ্টি হয় দারুণ দারুণ সানুনয় দুর্দশা। রূপা
আমার সাতকাহন ভালোবাসার নাম। রূপা আমার পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়াই প্রবাস থেকে সংগ্রহ
করা এক আকাশ খুশির ঠিকানা। রূপা হল দাঁতে দাঁত চেপে সকল ধরনের ধকল সইতে পারায় মহান মন্ত্র। সম্মোহনের
অসমাপ্ত দুপুর ; চারদিক ছেয়ে, বহুদূর থেকে ছুটে আসা অসংখ্য খুশি ; অথৈ সোহাগব্যথা।
রূপা, এমন একটি প্রস্ফূটিত লাজুক কমল যাকে
হৃদয়ের ভিতরে অনেক দূর অব্দি বহুযত্ন করে রেখে তালা ঝুলিয়ে
চাবিটিকে ফেলে দিই, বহুদূরের কোনো অজানা গ্রহে। রূপা
এমন একটি হাইড্রোজের কবিরাজি নাম যার জন্য কতরকমভাবে বাঁচব ; আর বাঁচতে না পারলে
সই, শুধু তার জন্যই খরস্রোতে
খুব-খারাপভাবে মরব। সেই রূপার মাইলের পর মাইল ছড়িয়ে থাকা
রেশমি সুবাসই আমাকে সর্বদা বিভোর করে রাখে। এই রূপাই আমার সারাটাজীবনের সবটুকু বানভাসি
কামনা-বাসনা আর উপাসনা।
রচনাটিঃ অডিও সিডি - "কাল সারারাত বৃষ্টি হয়েছিল" থেকে নেওয়া হল।
কাহিনী ও কবিতা - সুব্রত সামন্ত (বুবাই)
https://web.facebook.com/profile.php?id=100005822866092
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন